Wednesday, 30 March 2016

পাওয়ার কাট হওয়ার পর সুইচ অফ করা উচিত কেন?


গরমের সন্ধ্যা, লোডশেডিং তো লেগেই থাকে, তাই বলে কী স্টার জলসা দেখা বন্ধ করা চলে? পাওয়ার চলে গেলে কে আবার কষ্ট করে টিভির সুইচ বন্ধ করে,তার চেয়ে অন ই থাক, যখন কারেন্ট আসবে এমনই চলবে। 
টিভি হোক বা ফ্যান যেকোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র খারাপ হবার পিছনে, এই সুইচ বন্ধ না করাই একটা প্রধান কারন।
কিন্তু প্রশ্ন হল কেন?
প্রতিবার লোডশেডিং এর পর যখন পাওয়ার আসে তার সাথে একটি হাই ভোল্টেজ স্পাইক আসে। এই হাই ভোল্টেজ স্পাইকই ফ্রিজের কম্প্রেসার কে অকেজো করে, এস এম পি এস এর সুইচিং সেকশন এর ট্রাঞ্জিস্টর কে খারাপ করে, মোটরে মেকানিকাল এবং ইলেক্ট্রিক্যাল স্ট্রেস তৈরি করে।
পেজের ইনবক্সে একজন প্রশ্ন করেছিল এই স্পাইক ভোল্টেজ কিভাবে সৃষ্টি হয়?
এর উত্তর লুকিয়ে আসে পদার্থের ম্যাগ্নেটিক প্রপার্টিরর ভিতর। একটা ফেরোম্যাগ্নেটিক মেটিরিয়াল কে যখন তড়িত চুম্বকে পরিনত করা হয়, তখন তার ভিতরের অনু চুম্বকগুলি একটা নির্দিষ্ট দিকে সজ্জিত হয়।ফলে আমরা নর্থ এবং সাউথ পোল পাই। এখন যদি ওই তড়িৎ চুম্বকে বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ করা হয় তা হলে সেটি তার চুম্বকত্ব হারিয়ে ফেলে। তা হলেও কিছু অনু চুম্বক নিজেদের শয্যা বজায় রাখে।যার ফলে কিছুটা চৌম্বকত্ত্ব থেকে যায়। একে হিস্টেরেসিস এফেক্ট বলা হয়।
এবার যদি পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং এর দিক থেকে ভাবা হয়, 


আপনার বাড়িতে পাওয়ার আসে অনেক গুলি ট্রান্সফর্মার মারফত। এদের কোর তৈরি হয় ফেরোম্যাগ্নেটিকমেটেরিয়াল থেকে। এমনিতে ট্রান্সফর্মার এর ওয়াইন্ডিং এর ডিসি রেজিস্ট্যান্স খুব কম হয় (কয়েক ওহম মাত্র) অর্থাৎ সম্পুর্ন ভোল্টেজ কে সামলায় ইন্ডাক্টিভ রিয়াক্টেন্স। হিস্টিরিসিস এফেক্ট এর মতো আর একটি এফেক্ট রেমেনেন্স এফেক্ট এর জন্য। একদম প্রথম মুহুর্তে ইন্ডাক্টিভ রিয়াক্টেন্স কার্যত অনেক কম হয়ে যায়, এর ফলে প্রচুর কারেন্ট ফ্লো করে। এটাই ওই প্রাথমিক ভোল্টেজ সার্জ বা ভোল্টেজ স্পাইক সৃষ্টি করে।
এই স্পাইকের থেকে ডিভাইস কে বাঁচানোর জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি আজকাল ব্যবহার হচ্ছে যেমন তাই স্পীড সার্কিট ব্রেকার, পাওয়ার ডিলে সার্কিট আরো অনেককিছু।
তাই লোডশেডিং এর পর সবসময় টিভির সুইচ অফ করবেন।
আজ এই পর্যন্তই।
প্রীয়জনদের সচেতন করতে শেয়ার করতে পারেন।