Tuesday, 2 February 2016

আপনি কি জানেন ,আপনার অজান্তেই আপনার গতিবিধির উপর কেউ নজরদারি করছে কি না? জেনে নিন কি রহস্য আছে এই "RFID" ট্যগ ভিভাইসের পিছনে।


আপনি শপিং মলে গেছেন নিশ্চই ,সে ঘুরতেই যান (আমার মতো) বা সত্যিকারের কিছু কিনতেই যান, একটা জিনিস নিশ্চই দেখেছেন এক একটা প্রোডাক্টের সাথে কতরকম কার্ড লাগানো থাকে। বা আপনি যে ব্রান্ডেড শার্ট টা কিনলেন তার সাথে কতগুলো লেবেল লাগানো থাকে?
এগুলো কী সত্যই শুধু লেবেল না গোপনে আরো অন্য কোনো কাজ করে চলে।
সত্যকথা হল এর মধ্যে অনেকগুলিই শুধু মাত্র লেবেল না, এটা ন্যানো ইলেক্ট্রনিক্স এর এক অনবদ্য আবিষ্কার "RFID" ডিভাইস।
পুরো নাম Radio-frequency identification (RFID)
এর মধ্যে জমা থাকে এমন সব তথ্য যা দিয়ে এটাকে একটা RFID ডিটেক্টর শনাক্ত করতে পারে এর পরিচয়। আর এই কাজ টা করা হয় রেডিও তরঙ্গের সাহায্যে।
কোনো প্রোডাক্ট কে আইডেন্টিফাই করার জন্য যে ফ্রিকুরেন্সী ব্যবহার করা হয় তা ১২০ থেকে ১৫০ কিলো হার্তজ সীমার ভিতর।
এই মাইক্রোচিপ টি কাগজের থেকেও পাতলা হতে পারে,ফলে এটা সহজেই যে কোনো পোষাকের লেবেলের ভিতর ঢুকিয়ে দেওয়া যায় এবং দিনের পর দিন সচল থাকে ব্যবহারকারীর অজান্তেই।
এতে কোনো ব্যাটারি লাগে না,ডিটেক্টর ডিভাইস থেকেই কোনো তার ছাড়াই ইলেক্ট্রোম্যাগ্নেটিক রেজোনেন্সের সাহায্যে এটা পাওয়ার সংগ্রহ করে কাজ করে।

এবার বলি পোষ্টের প্রথমে কেন আপনার গতিবিধির উপর নজর রাখার আশঙ্কা করেছিলাম।
মনে করুন আপনি একটা ব্রান্ডেড শার্ট কিনেছেন যেটাতে এইরকম একটা চিপ লাগানো আছে,যেটা আপনি জানেনই না। এয়ারপোর্ট,শপিংমল, বড় অফিস এইরকম অনেক যায়গাতেই ঢুকতে হলে আপনাকে স্ক্যান করা হয়, কখোনো গেটেই অটোমেটিক স্ক্যানার লোকানো থাকে বা গার্ড নিজেই স্ক্যান করে। ( এইবারের বই মেলায় আমার ব্যাগ এবং আমাকে তিন বার স্ক্যান করেছিল)
এই স্ক্যানার গুলি কিন্তু ওই আর এফ আই ডি চিপের ইনফর্মেশন গুলো পড়ে নিতে পারে। এখন ইন্টারনেট আর ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস মিলিয়ে এক নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাব হয়েছে ,এর পোশাকি নাম " ইন্টারনেট অফ থিংস"।এর মাধ্যমে প্রতিটি ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ইন্টারনেট এর সাথে কানেক্টেড থাকে।এভাবে যদি এই স্ক্যানার গুলিও একে অন্যের সাথে কানেক্টেড থাকে তা হলে বুঝতেই পারছেন আপনি কথা থেকে কোথায় যাচ্ছেন ট্র্যাক করা এমন কিছু কঠিন কাজ না।
তবে চিন্তাই কোনো কারন নেই,কারন ইন্ডিয়া তে সচরাচর এমন টা হয় না।আর আপনি যদি সেই রকম কেউকেটা না হন তা হলে তো কথাই নেই।
আরো লেখার ইচ্ছে ছিল সময়ের অভাবে আর সম্ভব হল না।