Sunday, 22 May 2016

আমরা জানি দুটি কন্ডাকটিভ মেটালিক প্লেটের মাঝে কোনো কুপরিবাহী বা ডাইইলেকট্রিক পদার্থ রাখলে ক্যাপাসিটর ফর্ম করে।তা হলে ক্যাপাসিটর এর পোলারিটি আসে কী ভাবে? মানে একটা লেগ পজিটিভ আর একটা লেগ নেগেটিভ কেন হয়? আর পোলারিটির প্রয়োজন টাই বা কিসের?


পোলারাইজড ক্যাপাসিটরের পোলারিটি আসে তার অভ্যন্তরীন গঠনের জন্য।ম্যানুফ্যাকচারিং করার সময় এনোড হিসাবে একটা মেটালিক পাত নেওয়া হয় এরপর তাকে অক্সিডাইড করে তার উপর একটা মেটাল অক্সাইডের পাতলা আস্তরন ফেলা হয় যেটা তড়িতের কুপরিবাহী।এই পাতলা লেয়ার টাই ডাইইলেকট্রিক হিসাবে কাজ করে।অন্যদিকে ক্যাথোড হিসাবে ব্যবহার করা হয় সলিড বা লিকুইড ইলেক্ট্রোলাইটিক এর একটা মোটা স্তর।
এই ভিন্নতার কারনেই যখন দুটি টার্মিনালে ভোল্টেজ প্রদান করা হয় তখন দুটি ভিন্ন মাত্রার ইলেকট্রিক ফিল্ড সৃষ্টি হয় এবং ক্যাপাসিটর তার পোলারিটি পায়। মজার জিনিস হল এর ফলে কম আয়তনে অনেক বেশী ক্যাপাসিটেন্স ভ্যালু সৃষ্টি করা । একই ভ্যালুর যদি নন পোলারাইজড বা সিরামিক ক্যাপাসিটর বানানো হয় তা হলে অনেক বড় হবে এবং খরচ ও অনেক বেশী হবে।
এবার একটা কথা বলছি(আপনারা কতটা সহমত হবেন জানিনা)আসলে পোলারাইজড ক্যাপাসিটর এর তেমন কোনো প্রয়োজন নেই আপনি একই ভ্যালুর নন পোলারাইজড ক্যাপ দিয়ে কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন।
তা হলে কেন আমরা পোলারাইজড ক্যাপ ব্যবহার করি।

১। প্রথমত একই ভ্যালুর জন্য পোলারাইজড ক্যাপ এর দাম তুলনায় কম
২।মনে করুন আপনি কোনো সিগ্ন্যাল ফিল্টারিং এর জন্য ক্যাপ সিরিজে লাগাবেন,সেখানে স্বাভাবিক ভাবেই ইনপুট আউটপুট এর থেকে পজিটিভ থাকবে। সেখানে যদি একই ভ্যালুর নন পোলারাইজড ক্যাপ ব্যবহার করেন তা হলে ক্যাপ এর সাইজ ও দাম দুটোই বেশী হবে।সেই একি কাজ পোলারাইজড ক্যাপ ব্যবহার করে করলে সাইজ ও দাম দুটোই কম হবে।
নোটঃ যে সার্কিট আপনি নিজে ডিজাইন করেননি, সেখানে সব পোলারাইজড ক্যাপ গুলো কে সে্ম ভ্যালুর ননপোলারাইজড ক্যাপ দিয়ে রিপ্লেস করতেই পারেন। কিন্তু উল্টোটা ভুলেও করবেন না মানে যেখানে নন পোলারাইজড ক্যাপ দিয়ে রিপ্লেস করবেন না কারন রিভার্স ভোল্টেজের পিক ভ্যালু আপনি জানেন না।
আবার টপিকে ফিরে আসি……
তা হলে প্রশ্ন আসে কম টাকায় কম যায়গায় পোলার ক্যাপ এ যদি কাজ হয়ে যায় তা হলে কেন শুধু শুধু নন পোলার সিরামিক ক্যাপ ব্যবহার করব? নন পোলার ক্যাপের এমন কিছু গুন আছে যা পোলার ক্যাপের নেই-
পোলার ক্যাপের লিকেজ কারেন্ট অনেক বেশি হয় যা ভালো না। এটা বেশি হাই ফ্রীকোয়রন্সী তে রেসপন্স করতে পারেনা এলুমিনিয়াম ক্যাপস ১০-১০০ KHZ, এবং ট্যান্টেলাম ক্যাপাসিটর কয়েক মেগা হার্তয পর্যন্ত রেসপন্স করতে পারে।
কিন্তু নন পোলার ক্যাপাসিটর এর লিকেজ কারেন্ট খুব কম এবং ফ্রীকোয়েন্সী রেসপন্স কয়েকশো গিগা হার্তয পর্যন্ত হয়।

Friday, 20 May 2016

ঠান্ডা উপভোগ করার পাশাপাশি কেমন হয় এটা জানলে যে এগুলো আসলে কীভাবে কাজ করে?

কেমন আছেন সবাই? অনেকদিন পর আবার লিখছি। গত কয়েক দিনে এয়ার কন্ডিশনার বিক্রি প্রায় দ্বিগুন হয়ে গেছে সাথে ফ্রীজ তো প্রতিটি ফ্যামিলি তে এশেনশিয়াল হয়ে পড়েছে। 
ঠান্ডা উপভোগ করার পাশাপাশি কেমন হয় এটা জানলে যে এগুলো আসলে কীভাবে কাজ করে? প্রয়োজনে মাইনর ট্রাবলশুটিং নিজেই করতে পারবেন তা হলে।আসুন তা হলে দেখে নেওয়া যাক।

হিট ফ্লো টেম্পারেচার ডিফারেন্স এর উপর ডিপেন্ড করে।তা মানে তাপ কখোনোই ঠান্ডা বাতাস থেকে গরম বাতাসে যাবেনা। যাবেনা বললেই হল আমরা জোর করে পাঠাব।এর জন্য দরকার একটা শক্তিশালী মোটর যুক্ত কম্প্রেসার। এটা একটা রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস কে ( যেমন ফ্রেয়ন) প্রবল চাপে সংকুচিত করে,ফলে গ্যাসের তাপমাত্রা ও চাপ দুটোই বেড়ে যায়।এই গ্যাস এর পর কুলিং টিউবের ভিতর দিয়ে যায়।এখানে গ্যাস তার হিট বিকিরিত করে ঠাণ্ডা হয়ে তরলে পরিনত হয়।এরপর এটা একটা এক্সপেনশন ভালভের ভিতর দিয়ে যায়,ফলে এর আয়তন বাড়ে এবং পুনরায় কম প্রেসারের (লো প্রেসার)ঠাণ্ডা গ্যাসে পরিনত হয়। এই ঠান্ডা গ্যাস একটি তাপের সু পরিবাহী টিউব কয়েলের ভিতর দিয়ে যায়।এখানে ওই গ্যাস বাইরে থেকে তাপ শোষন করে নেয় এবং ওই কয়েলের আশেপাশে বাতাস ঠান্ডা হয়।একটা ব্লোয়ার ফ্যান ওই ঠান্ডা বাতাস কে ঠেলে ঘরের ভিতরে পাঠিয়ে দেয়। এটা বেসিক ওয়ার্কিং প্রিন্সিপাল যেকোনো ব্রান্ড এর এসির জন্য প্রযোয্য।এছাড়াও প্রয়োজন মত বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন রকম ফিচার যোগ করেছে।
প্রত্যেক ব্রান্ড ই নিজেদের এসি কে সেরা বলে টিভিতে প্রচার করছে।অনেকেই কনফিউজড কোনটা ভালো হবে।আসলে সবগুলোই ভালো, দেখতে হবে আপনার প্রয়োজন এবং বাজেট কেমন।এটা নিয়ে পরের পোষ্টে বিস্তারিত আলোচনা হবে এই পেজেই।

এসি কিনবেন ভাবছেন কয়েকদিনের মধ্যে বা পরে কেনার ইচ্ছে আছে?

এসি কিনবেন ভাবছেন কয়েকদিনের মধ্যে বা পরে কেনার ইচ্ছে আছে? তা হলে এই পোষ্ট টা আপনার জন্য।জেনে নিন এসি কেনার সময় কোন বিষয় গুলো মাথায় রাখতে হয়।
প্রথমে ভাবুন কেমন এসি কিনবেন? স্প্লিট উইন্ডো মাউন্টেড না কমপ্যাক্ট পোর্টেবল। যাদেরর প্রতিটা ঘরে এসি লাগানো সামর্থ্য নেই তাদের পোর্টেবল নেওয়াই সুবিধাজনক, দামও একটু কম এগুলোর।

এসি সবথেকে সস্তায় পাবেন শীতকালে সাথে অনেক অফার ও দিয়ে থাকি আমরা।গরমে যেটা থাকেনা, তাই পরের গরমের জন্য শীতেই তৈরি হয়ে নিন।


রুমের আয়তন ও রুমের ভিতরের জিনিস পত্রের পরিমানের উপর ভিত্তি করে এসির ঠান্ডা করার ক্ষমতা নির্বাচন করুন। এটা সাধারনত বি টি ইউ প্রতি ঘন্টা এককে প্রকাশ করা হয়।আবার টন ইউনিট ও জনপ্রিয়। বড় ঘর বেশী লোকজন থাকলে বেশি টন এর এসি নেওয়া ভালো।তা না হলে এফিসিয়েন্সী কমে যায়।

এসি কেনার সময় এনার্জি এফিসিয়েন্সী রেটিং অবশ্যই দেখে নেবেন।EER যত বেশী হবে তত ভালো,তবে দাম টা একটু বেশী পড়বে।তা হলেও পরে বিদ্যুৎ বিল অনেক বাচাতে পারবেন।

বিল্ট ইন এয়ার ফিল্টার আছে কিনা দেখে নেবেন।

এছাড়াও এরো অত্যাধুনিক ফিচার যেমন GSM কানেক্টিভিটি, প্রি ক্যালিব্রেশন বিভিন্ন ব্রান্ড দিয়ে থাকে। এরপর সবকিছু আপনার বাজেটের উপর নির্ভর করবে।

আজ এ পর্যন্তই। ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স নিয়ে আরো পোষ্ট আমাদের পেজে প্রতিদিন।

আপনার কম্পিউটার আপনাকে স্পর্শ করতে পারে?

আপনার কম্পিউটার আপনাকে স্পর্শ করতে পারে? তার আবেগ অনুভূতি দিয়ে আপনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে পারে? উত্তর যদি না হয় তা হলে এই পোষ্ট টা আপনার জন্য।
এটা হল হ্যাপটিক প্রযুক্তি যা কাজ করে ট্যকটাইল সেনসেশন এর উপর ভিত্তি করে। আপনার স্কিনে যে বায়োলজিক্যাল সেন্সর গুলো থাকে এগুলো দিয়ে আপনি কোনো সার্ফেস কেমন চোখে না দেখেও বুঝতে পারেন, আবার এর উপর চাপ দেওয়া হলে কতটা চাপ পড়ছে তাও বুঝতে পারেন।ট্যাকটাইল সেন্সর ও কোথায় কতটা চাপ পড়ছে তার একটা ডিজিটাল ইমেজ সৃষ্টি করতে পারে।যেটা প্রয়োজনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে এক কম্পিউটার থেকে আর এর কম্পিউটার এ স্থানান্তর করা যায়। 

একটা উদাহরন দিলে আরো ভালো বোঝা যাবে, মনে করুন আপনি কলকাতায় বসে আপনার আমেরিকা প্রবাশী আত্মীয়ের সাথে অনলাইন ক্রিকেট গেম খেলছেন।এই প্রযুক্তির সাহায্যে আপনি প্রত্যেক টি বলের ইম্প্যাক্ট ফিল করতে পারবেন।এই কাজটি করে কিছু এক্সবক্স, ড্রিমকাস্ট,সাউন্ডব্রিনার এর মত ওয়ারেবল হ্যাপটিক ডিভাইস।এটা ভাইব্রেসন ফিডব্যাক দেয়। কিছি অত্যাধুনিক ডিভাইসে আলট্রাসাউন্ড ওয়েভ ফিডব্যাক ব্যবহার করা হয়।ভাররবর্ষে যদিও এখোনো পপুলার নয় এগুলো। 
এই হ্যাপটিক প্রযুক্তি যে শুধুমাত্র গেমিং এর জন্য ব্যবহার করা হয় তা নয়, মেডিক্যাল সায়েন্স ও মিলিটারি তেও এর বহুবিধ ব্যব্যহার আছে। ভাবছেন এগুলো আপনার জন্য না? তা হলে ভেবে দেখুন আপনার এন্ড্রয়েড ফোনের ভাইব্রেটিং টাচ ফিডব্যাক কিন্তু একটি হ্যাপটিক প্রযুক্তি। 
আশা করা যায়,ভবিষ্যতে ভারতবর্ষে এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে, এবং আমরাও এই প্রযুক্তি পন্য নিজেরা উতপাদন করতে পারব।

বজ্রপাতের সময় ফোন ব্যবহার কি সত্যি নিরাপদ?

বাইরে বজ্রপাত ফোনে দরকারি কথা বাকি, ফোন কি রেখে দেবেন? 
যদি আপনি তার যুক্ত ফোন ব্যবহার করেন তা হলে রেখে দিন। 
বজ্র সাধারণত গ্রাউন্ডের সাথে যুক্ত অবজেক্টের উপর আকৃষ্ট হয়।সে দিক থেকে টেলিফোনের পোলের উপর পড়ার একটা সম্ভবনা থেকেই যায়, যা থেকে তা পাওয়ার লাইন টেলিফোন লাইনে ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু মোবাইল যেহেতু মাটির সাথে কানেক্টেড নয়। তাই এতে কোনো বিপদের আশংকা নেই বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ রা।নীচে একটি জার্নালের রিপোর্ট তুলে দিলাম
Following worldwide media interest in 2006 (BBC
News and British Medical Journal ), the US
National Oceanic and Atmospheric Administration
(NOAA) issued a statement, saying lightning is
not attracted to people carrying mobile phones.
“Cell phones, small metal items, jewellery, etc., do
not attract lightning. Nothing attracts lightning.
Lightning tends to strike taller objects,” said John
Jensenius, a NOAA National Weather Service
lightning expert. “People are struck because they
are in the wrong place at the wrong time. The
wrong place is anywhere outside. The wrong time
is anytime a thunderstorm is nearby.”
কিন্তু দাঁড়ান আর একটু বাকি আছে। এই পৃথিবী তে প্রতিটা জিনিসের একিটা রেজোন্যান্স ফ্রিকুয়্রন্সী আছে।এবং সেই জিনিস কে যদি ওই রেজোন্যান্স ফ্রিকোয়েন্সি তে ভাইব্রেট করানো হয় তা হলে তার ভাইব্রেশনের পরিমান বা এম্পলিচিউড আশ্চর্য জনক ভাবে বেড়ে যায়। এই ফেনোমেনা ব্যবহার করা হয় রেডিও সিগনাল ট্রান্সমিশন করার সময়। আমরা যে লাইটনিং দেখি এবং ফোনের সিগ্ন্যাল দুটোই হাই ফ্রিকোয়েন্সি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক সিগ্ন্যাল। যদিও দুটোর ফ্রিকোয়েন্সি কখোনো এক হয় না। কিন্তু কোনো কারনে কোনো একটার হার্মনিক্স ফ্রিকোয়েন্সি অন্যটার সাথে মিলে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।যার ফলে রেজোন্যান্স এবং সুপারপজিশন এর মতো ঘটনা ঘটতেই পারে। তাই মোবাইল ব্যবহার কিন্তু ১০০ পার্সেন্ট নিরাপদ এ গ্যারিন্টি দেওয়া যায় না। তবে যদি আপনি ঘরের ভেতরে থেকে মোবাইল ব্যবহার করেন তা হলে ৯৯ পার্সেন্ট নিরাপদ আপনি। 
চাইলে শেয়ার করতে পারেন।