Saturday, 11 June 2016

লো ভোল্টেজে ফ্যান চালালে কি ফ্যান পুড়ে যাওয়ার সম্ভবনা আছে?

ডোমেস্টিক পারপাশে ফ্যান বলতে আমরা যা বুঝি তা সিলিং ফ্যান টেবিল ফ্যাল,ওয়াল ফ্যান ,স্ট্যান্ড ফ্যান ইত্যাদি।দেখতে আলাদা হলেও সবই আসলে একই জিনিস।সবই সিঙ্গেল ফেজ ইন্ডাকশন মোটর।কোনো মোটরের ক্ষমতা নির্ভর করে মূলত ভোল্টেজ আর কারেন্টের উপর।একই শক্তি পাওয়ার জন্য যদি ভোল্টেজ কমান তা হতে তার সাথে কারেন্ট বাড়াতে হবে আবার যদি কারেন্ট কমাতে চান তা হলে ভোলেজ বাড়াতে হবে। কিন্তু প্রতিটা মোটরেরই সর্বোচ্চ ভোল্টেজ বা কারেন্ট লিমিট আছে তার বেশী দেওয়া হলে সেটি অবধারিত ভাবে খারাপ হবে।

বিভিন্ন কলকারখানা থেকে আমাদের কাছে সাধারনত যে মোটরগুলি আসে রিওয়াইন্ডিং এর জন্য তাদের বেশীরভাগের কয়েল পুড়ে যাওয়ার কারন লো ভোল্টেজ।মনে করুন মেসিন একটা নির্দিষ্ট লোড নিয়ে কাজ করছে, হটাৎ করে ভোল্টজ লো হয়ে গেল এখন মোটর চাইবে তার শক্তি কন্সট্যান্ট রাখতে ফলে সাপ্লাই থেকে আরো বেশী কারেন্ট টানবে।
কোনো তারের ভিতর দিয়ে যখন বিদ্যুৎ প্রবাহ হয় তখন তার টি গরম হতে থাকে এই তাপ উৎপাদনের হার তারের ভিতর দিয়ে যাওয়া কারেন্টের বর্গের সমানুপাতিক। মানে কারেন্ট দ্বিগুন বাড়লে তাপ চার গুন বাড়বে।
ঠিক এই কারনে লো ভোল্টেজে লোড সহ মোটর বেশী কারেন্ট টানে ফলে মোটরের ওয়াইন্ডিং এর তার খুব গরম হয়ে যায় এবং একসময় পুড়ে যায়।
এই লো ভোল্টেজ থেকে আমরা মোটরকে বাচানোর জন্য আন্ডারভোল্টেজ রিলে ও সার্কিট ব্রেকার লাগানোর পরামর্শ দিই। কাষ্টমার রা সাধারনত বড় মোটর গুলির প্রোটেকশন এর জন্য আমাদের বলেন কিন্তু ছোট মোটরগুলিই খারাপ হয় বেশী।
এত গেল ইন্ডাস্ট্রিয়াল থ্রি ফেজ মোটরের কথা। এবার একটা মজাদার প্রশঙ্গে আসি। বলুন তো পাখা তে লোড কী? পাখার লোড কি সবসময় এক থাকে?
এক তো পাখার নিজের ব্লেডের ওজন কে তা প্রথমে তার স্থিতিজাড্য থেকে সরাতে হয় তাই ব্লেডের ওজন অবশ্যই একটা লোড লোড।
আর একটা লোড আছে তা হল ভিস্কাস ফ্রিকশান( viscous friction ) লোড। যারা ফিজিক্স নিয়ে পড়াশোনা করছেন তারা ভালো বুঝতে পারবেন।দুটি তলের মধ্যে ভিস্কাস ফ্রিকশন তাদের রিলেটিভ ভেলোসিটির উপর নির্ভর করে।এর অর্থ হল এই যদি একটি বাতাসের স্তর আর পাখার ব্লেড কে তল হিসাবে কল্পনা করি তা হলে ফ্যানের ব্লেডের স্পীড যত বাড়বে বাতাস ফ্যানের ব্লেড কে ঘুরতে তত বেশী বাধা দেবে।এই বাধা টপকনোর জন্য ফ্যানের মোটর কে আরো বেশী শক্তি প্রদান করতে হবে। যারা ফ্যানের মোটর ডিজাইন করে তারা স্টেডি স্টেট পাওয়ার এর কথা বিবেচনা করেই ডিজাইন করে।
ভোল্টেজ কম হলে মোটর স্লো হয়ে যায় ফলে স্লিপ বেড়ে যায় ।যার ফলে রোটর কারেন্টের ফ্রীকোয়েন্সী বেড়ে যায় ফলে রোটরের পাওয়ার লস বেড়ে যায় ও রোটর গরম হতে শুরু করে। বেশীর ভাগ মোটরের রোটর সলিড স্কুইরেল কেজ টাইপের হওয়ার জন্য পোড়ে না কিন্তু স্টেটর ওয়াইন্ডীং পুড়ে যায়।
তা হলে এখন কি করবেন
ভোল্টেজ যদি খুব কম না হয় (১৫০ ১৮০ভোল্ট) তা হলে চালাতে পারেন তেমন কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু ভোল্টেজ এর কম হলে চালাবেন না।
কিন্তু মনে করুন আপনি রাতে ফ্যান চালিয়ে ঘুমিয়ে গেছেন আর ভোল্টেজ খুব লো হয়ে গেছে তা হলে কি করবেন?
আমাদের কাছে এমন ডিভাইস আছে যা ভোল্টেজ লো হলেই অটোমেটিক ফ্যান কে ডিস্কানেক্ট করে দেবে। তা আর বাড়িতে লাগিয়ে কাজ নেই খাজনার থেকে বাজনা বেশী হয়ে যাবে।এগুলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পারপাশে ইউজ হয়।
আজ এপর্যন্তই।আপনারো কোনো প্রশ্ন থাকলে পেজের ইনবক্সে করতে পারেন। কাজে লাগলে শেয়ার করতে পারেন।

 by- A. Maity (JEE)

Wednesday, 8 June 2016

ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্স নিয়ে যাদের জানার আগ্রহ আছে শুধু তাদের জন্য এই পোষ্ট টি।


আমরা ইলেকট্রনিক্স বলতে সাধারনত কিছু অডিও ভিজুয়্যাল ডিভাইস মোবাইল টিভি কম্পিউটার কে বুঝি।কিন্তু এই টেকনোলজির ক্ষেত্র কিন্তু অনেক বড়।যেকোনো দেশের ডিফেন্স সিস্টেমে বড় ভূমিকা রাখে ইলেকট্রনিক্স।
আজকে বলব রেডার নিয়ে। নামটা প্রায় সকলেই শুনেছেন। এবার একটু বিস্তারিত ভাবে জানা যাক রেডার আসলে কী?
১৮৮৬ সালে ফিজিসিস্ট হেনরি হার্তয আবিষ্কার করেন রেডিও ওয়েভ কোনো কঠিনতল থেকে প্রতিফলিত হতে পারে আলোর মত। রেডারে মেইনলি দুটো অংশ থাকে একটা হল ট্রান্সমিটার এটা রেডিও ওয়েভ অথবা মাইক্রোওয়েভ টান্সমিট করে,অন্যটি হল রিসিভার এটা টার্গেট থেকে প্রতিফলিত ওয়েভ রিসিভ করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষের বিমানের অবস্থান জানার জন্য প্রথম রেডার বানায় ইউ এস নেভি ১৯৪০ সালে।

রেডার কথাটির পুরো নাম তাই “ রেডিও ডিটেকশন এন্ড রেঞ্জিং”।
ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্সে টু ডি,থ্রি ডি দুরকমেরই রেডার টেকনলোজি রয়েছে।
যে রেডিও ওয়েভ প্রতিফলিত হয়ে আসে তা অত্যন্ত দুর্বল হয়। এই সিগ্ন্যাল কে এরপর ইলেকট্রনিক এম্লিফায়ার দিয়ে এম্পিফাই করা হয়। এরপর প্রাপ্ত সিগ্ন্যাল কে ডিজিটাল সিগ্ন্যালে কনভার্ট করা হয়। এরপর এই ডিজিটাল সিগ্ন্যাল কম্পিউটাকে পাঠানো হয়। কম্পিউটার একটি জটিল সফটওয়ারের সাহায্যে এই এই সিগ্ন্যাল কে ইমেজে কনভার্ট করে। ফলে সহজেই রেডার ম্যান গ্রাফিক্যাল ভাবে কম্পিটার স্ক্রীনে শ্ত্রুপক্ষের বিমানের অবস্থান জানতে পারে। এই সফটওয়ারে মূলত একটি ম্যাথমেটিক্যাল প্রসেস ব্যবহার করা হয় যার নাম ফুরিয়ার ট্রান্সফর্মেশন। যারা ম্যাথের স্টুডেন্ট তারা এটা জেনে থাকবেন।
ইন্ডিয়ান ডিফেন্স সিস্টেমের র‌্যাডার গুলি একইসাথে স্থির বস্তুর অবস্থান ও প্রচন্ড দ্রুতগতিতে চলে শ্ত্রুপক্ষের বিমানের অবস্থান ও গতিবেগ নির্নয় করতে পারে।
যদি টার্গেট গতিশীল হয় তা হলে প্রতিফলিত রেডিও ওয়েভের কম্পাঙ্কে তা প্রভাব পড়ে। একে বলে ডপলার এফেক্ট। কম্পাঙ্কে কতটা পরিবর্তন হচ্ছে তা থেকে কম্পিউটার হিসেব করে বলে দিতে পারে টার্গেটের স্পীড কত।
রাডারের মধ্যে এত প্রযুক্তি আছে যা এই একটা পোষ্টে সব বলা সম্ভব না।
আবার আগামী পর্ব আমাদের পেজে।
চাইলে শেয়ার করতে পারেন।


Tuesday, 7 June 2016

আপনি কি সাউন্ড বিজনেস করেন? নিজে শোনার জন্য স্পিকার এম্লিফায়ার কিনতে চান? তা হলে এই পোস্ট টা আপনার জন্য।


সত্যি কথা বলতে স্পীকার বিক্রেতা  উৎপাদনকারীরা রা আপনাকে বোকা বানায়।
তবে আমরা সত্যিটা বলে দিই কাস্টমার কে। এম্পলিফায়ার এর গায়ে ওয়াটেজ রেটিং লেখা থাকে। মনে করুন আপনি একটি ১০০০ ওয়াট এম্লিফায়ার কিনলেন। কিন্তু সত্যিই কে সেটা ১০০০ ওয়াটের?

উত্তর হল না। কেন?
এটা একটা মার্কেটিং স্টান্ট । ম্যানুফ্যাকচারার রা যে রেটিং টা দেয় ওটা আসলে পিক ভ্যালু । আসলে কোনো গানের ক্ষেত্রে এই পিক রেটিং ওয়াটেজ বেশি সময় স্থায়ী হয়না । কয়েক সেকেন্ড মাত্র হয়। কিন্তু এই পাওয়ার রেটিং এ যদি স্পীকারটি বেশি সময় চালান তা হলে তা পুড়ে যাবে। স্ট্যান্ডার্ড হিসাবে স্পীকারের রেটিং আর এম এস(রূট মিন স্কয়ার) এ দেওয়া উচিৎ। যেটা কম দামের সিস্টেম গুলোতে দেয়না। এই ভ্যালুটা আসলে পিক ভ্যালুর থেকে অনেক কম হয়। এই রেটিং এর পাওয়ারে আপনি সেইফলি গান বাজাতে পারবেন।
(Jyotshna Electricals and Electronics)
ভাবছেন এম্পলিফায়ার আর স্পীকারের ওয়াট বাড়াবেন আর বেশী সাউন্ড শুনতে পাবেন?
না সেটা হবেনা। কেন?
আমাদের কান এমনই একটা সেন্সর যেটা লগারিদমিক স্কেলে রেস্পন্স করে। মানে আপনি পাওয়ার যদি ৬ গুন বাড়িয়ে দেন তা হলে কিন্তু ৬ গুন বেশি আওয়াজ শুনতে পাবেন না, অনেক কম পাবেন। কেমন পাবেন তা জানতে হলে আপনার সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটরে লগ নিয়ে এক থেকে দশ অবধি বিভিন্ন মান পুট করে দেখুন।নিজেই একটা ধারনা পেয়ে যাবেন।
একটা গড় হিসাব আছে ,স্পিকার থেকে এক মিটার দূরে যদি থাকেন তা হলে ১ ওয়াট পাওয়ারে ৮৫ থেকে ৯০ ডেসিবেল শ্রবনযোগ্য সাউন্ড পাবেন।
এরপর প্রতি ওয়াটে গড়ে ৩ ডেসিবেল করে সাউন্ড বাড়তে থাকবে।
সবসময় স্পীকারের ওয়াট রেটিং এম্পলিফায়ার রেটিং থেকে কম রাখবেন।
বাজারে সাধারনত ৮ ওহমের স্পীকার বেশি পাওয়া যায়। ওহম ভ্যালু বেশি হলে সাউন্ড ক্লিয়ার হয় ডিস্টর্সন কম থাকে। ভালো কোয়ালিটির সাউন্ড পেতে হলে ৪ ওহম স্পীকার ব্যবহার না করাই ভালো।
কিছুদিন আগে সাউন্ড দিয়ে মাটির হাড়ি ভাঙ্গার কম্পিটিশনের জন্য একটা স্পীকার ডিজাইন করেছিলাম যেটার ভয়েস কয়েলের রেজিস্ট্যেন্স এক ওহমের কম রেখেছিলাম।প্রতিটা ব্যাসে প্রচুর কারেন্ট টানত।সাউন্ডের মাধুর্য্যের কথা আর নাই বা বল্লাম।একাজে এসব লাগেনা।
আজ এ পর্যন্তই পরের পর্ব আমাদের পেজে।
আপনার জন্য প্রশ্ন- আপনারা কে কে লগারিদমিক গ্রাফ পেপার ব্যবহার করেছেন? কি কাজে করেছেন?