Sunday, 7 February 2016

জেনে নিন ইন্ডিয়ান রেলওয়ের সবথেকে আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি বিলাসবহুল কোচ গুলির সম্পর্কে।


"কাপুরথালা" রেলওয়ে কোচ ফ্যাক্টরি, এখানেই তৈরি হয় সর্বাধুনিক Linke Hofmann Busch (LHB) coaches.
প্রথম ২৪ টা কোচ আমদানি করা হয়েছিল জার্মানি থেকে শতাব্দি এক্সপ্রেসে ব্যবহার করার জন্য। তারপর নিজেরাই উৎপাদন শুরু করে।
এখন প্রশ্ন আসতেই পারে, কি এমন আছে এই কোচে যার কারনে আজ আলোচনার মুখ্য বিষয় হয়ে উঠেছে?
প্রথমত এই কোচগুলি ডিজাইন করা হয়েছে ১৫০ কিমি প্রতি ঘন্টার উপরে ছোটার উপযোগী করে। লম্বায় ২৩.৫৪ মিটার, চওড়ায় ৩.২৪ মিটার। বোঝাই যাচ্ছে স্পেস কতটা বেশী। এসি কোচ ৭৮ জনের ক্যাপাসিটি রাখে।
দাবি করা হয় এই কোচ কখোনো ওল্টাবে না ,এমন কী মুখোমুখি সংঘর্ষেও না।
প্রত্যেক কোচে ব্যবহার করা হয়েছে এডভান্স নিউমেটিক ব্রেকিং টেকনোলজি।
ডিজাইন এমন ভাবে করা হয়েছে যাতে করে ভিতরে ট্রেন চলার শব্দ বেশী না যেতে পারে। শব্দের তীব্রতা ৬০ ডেসিবেলের থেকে কম থাকে।

একটা দারুন ফিচার যোগ করা হয়েছে এতে , যখন ট্রেন স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকবে টয়লেটের নোংরা জল কোনোভাবেই লাইনে পড়বেনা। একমাত্র ট্রেন রানিং থাকলেই ওয়েস্ট রিলিজ হবে।
ঝাকুনি কম করবার জন্য জটিল সব শক এবজর্বিং টেকনোলোজি ব্যবহার করা হয় তাদের মধ্যে আমার জানা কিছু কিছু হল প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারী সাস্পেন্সন তার সাথে এন্টি রোল বার, এন্টি হান্টিং ড্যাম্পার ইত্যাদি।
আমাদের পেজ যেহেতু ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক্স নিয়ে তাই কিছু ইলেকট্রিক্যাল স্পেসিফিকেশন আলোচনা করা যাক-
কোচের ছাদে রয়েছে মাইক্রোপ্রসেসর বেসড এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম এটা চলে থ্রী ফেজ ৫০ হার্তয ৪১৫ ভোল্ট এসি সাপ্লাই এ। এছাড়াও আছে IGBT বেসড ব্যাটারি চার্যার। অল্টারনেটিভ সাপ্লাই হিসাবে থাকে ৬ কিলো ওয়াটের অল্টারনেটর।
এই কোচ ব্যবহার করা হয়েছে এই ট্রেন গুলিতে-
১।রাজধানী এক্সপ্রেস,২। শতাব্দী এক্সপ্রেস,৩।দুরন্ত এক্সপ্রেস
এছাড়াও কিছু এমন নন এসি কোচ ব্যবহার করা হচ্ছে এই ট্রেনগুলিতে
১।পূর্বা এক্সপ্রেস, ২। সম্পূর্না এক্সপ্রেস, ৩।পুরুষোত্তম এক্সপ্রেস, ৪। শিভ গঙ্গা এক্সপ্রেস ইত্যাদি।
আমার যতটা জানা ছিল লিখলাম, এর পর আপনারা কমেন্টে যোগ করুন।

আজকের পোষ্ট ডিজেল লোকোমোটীভ নিয়ে।

এর আগে বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ নিয়ে পোষ্ট হয়েছে আজকের পোষ্ট ডিজেল লোকোমোটীভ নিয়ে
নাম দেখেই বোঝা যাচ্ছে "ডিজেল" হল ইঞ্জিনের মূল চালিকা শক্তি সায়েন্টিস্ট রুডলফ ডিজেল প্রথম ডিজেল ইঞ্জিনের প্রোটোটাইপ তৈরি করেন ১৮৯২ খ্রিষ্টাব্দে
তার পর থেকেই এই ইঞ্জিন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, কালক্রমে এসেছে রেলওয়ে ট্র্যকশনেও


ডিজেল লোকোমোটিভ মেইনলি দু রকমের হয়ে থাকে
(১) ডিজেল মেকানিক্যাল = এই পদ্ধতিতে ইঞ্জিনের মেকানিক্যাল পাওয়ার আউটপুট বিভিন্ন রকম গিয়ার সিস্টেমের সাহায্যে চাকায় ট্র্যান্সফার করা হয় এটা খুবি পুরানো পদ্ধতি, ব্যবহার কম
(২) ডিজেল ইলেকট্রিক = আগের পদ্ধতিটির কিছু সমস্যা আছে যেমন, যেমন ট্রেন কে থামালেও ইঞ্জিন থামানো চলবেনা এই রকম বড় ইঞ্জিনে এমন গিয়ার অপারেট করা অসুবিধাজনক ডিজেল ইঞ্জিন একটা স্পেসিফিক রেঞ্জ এর স্পীড এবং লোড এর মধ্যে এফিসিয়েন্ট তাই এই পদ্ধতিতে স্পীড কন্ট্রোল করা অসুবিধাজনক এই সমস্যাগুলির সমাধানে ইঞ্জজিনিয়ার রা তৈরি করেছে নতুন এক পদ্ধতি নাম, ডিজেল ইলেকট্রিক প্রোপলশন এই লোকোমোটিভে ডিজেল ইঞ্জিন একটা ডিসি জেনারেটর কে চালায়, এরপর বাকিটা ইলেকট্রিক লোকোমোটিভের মতোই কাজ করে
একই পদ্ধতিতে এমন কিছু লোকোমোটিভ বানানো হচ্ছে যা ইলেক্ট্রিসিটি এবং ডিজেল দুটোতেই চলতে পারে


   

ডিজেল ইঞ্জিন গুলো শুধু শধু দাঁড়িয়ে থাকে,তবুও ইঞ্জিন বন্ধ করেনা। ইসস কত তেল অপচয়। আপনর মনেও কি আমার মতো এই প্রশ্ন টা এসেছে কখোনো?


আজকের পোস্ট এর বিষয়বস্তু এটাই।
প্রথমেই বলে নিই ইন্ডিয়ান রেলওয়ে বেশিরভাগ যে সমস্ত ডিজেল লোকো ব্যবহার করে সবই পুরানো প্রযুক্তির। যেমন WDM2/WDM3A/WDM3D/WDG3A ইত্যাদি।
এতে এখন কার আধুনিক ডিজেল ইঞ্জিনের মতো ইলেকট্রনিক ফুয়েল ইঞ্জেকশন সিস্টেম নেই। তাই গাড়ির মতো একে চটপট চালু বা বন্ধ করা যায়না। ইঞ্জিন ক্রুদের পরপর অনেক গুলো স্টেপ পার করতে হয় ইঞ্জিন চালু করার জন্য, সব মিলিয়ে প্রায় পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট সময় লাগে।


আবার বারবার চালু বন্ধ করলে ব্যাটারি প্যাকের উপর চাপ পড়ে ফলে, ব্যাটারি তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়।
বেসি সময় ইঞ্জিন বন্ধ রাখলে তা ঠান্ডা হয়ে যায়, ইঞ্জিন গরম করতে আবার বেশ কিছু পরিমান এনার্জি নষ্ট হয় ফলে ওভার অল এফিসিয়েন্সী কমে যায়।
লোকো দাঁড়িয়ে থাকলেও ইঞ্জিন  আরো কিছু এডিশনাল কাজ করে থাকে, যেমন ব্রেকিং এর জন্য প্রয়োজনীয় নিউমেটিক প্রেসার কম্প্রেসার চালিয়ে জমা করে এয়ার ট্যাঙ্কে। এছাড়াও ব্যাটারি চার্জ করে থাকে।
বিভিন্ন জাংশান স্টেশনে আমরা যে ডিজেল লোকো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি তা মূলত সান্টিং এর জন্য ব্যবহার করা হয়, কয়েক মিনিট ছাড়া ছাড়াই এদের দরকার পড়ে, তাই আর বন্ধ করা হয়না।

Saturday, 6 February 2016

ক্লাউড কম্পিউটিং কথাটা অনেকেরই শোনা। প্রতিদিন আমারা জেনে ,না জেনে এর ব্যবহার করছি। ক্লাউড কম্পিউটিং এর বেসিক কন্সেপ্ট নিয়েই আজকের এই পোষ্ট।


আপনাদের মধ্যে কে কে টাকা দিয়ে সফটওয়ার কেনেন? হয় বন্ধুর থেকে কপি করা না হয় ইন্টারনেট থেকে ক্রাক ডাউনলোড করা। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। কি আর করা যাবে এক একটা সফটওয়ার এর দাম কম্পিউটার এর দামের থেকে বেশি। (এমনিতে আমার শনির দশা চলছে)
মনে করুন আপনি আপনার একটা সেলফি এডিট করবেন, তার জন্য কি লাখ টাকা দিয়ে ফটোশপ কিনবেন?
সফটওয়ার চুরি না করেও কাজ করার আর একটা উপায় হয় ,অন্যের কেনা সফটওয়ার ভাড়ায় নেওয়া। একটা কাজ করলেন,আর একটা কাজের ভাড়া দিয়ে দিলেন।ফলে আপনাকেও আর চোরের অপবাদ নিতে হল না,আর যে ভাড়া দিচ্ছে তারও কিছু লাভ হল।
এটাই হল ক্লাউড কম্পিঊটিং এর মূল থিওরি। আপনি একটা ভার্চুয়াল হার্ডওয়ার এবং সফটওয়ার ভাড়ায় নিলেন, যাকে নিয়ে কাজ করতে পারবেন ইন্টারনেট এর মাধ্যমে।
অনেকের কম্পিঊটার পুরানো কনফিগারেশন এর হবার জন্য সফটওয়ারের নতুন ভার্শন ইস্টল করতে পারেন না,তারাও ক্লাউড কম্পিউটিং এর সাহায্যে ওই মেসিনেই কাজ করতে পারবেন। ক্লাঊড হল লাখ লাখ সার্ভারের সমষ্টি যেখানে হার্ডওয়ার এবং সফটওয়ারের সমান তালে কাজ করে চলে।


 ও হ্যাঁ, ক্লাউড কম্পিউটিং এর নামে ক্লাউড বা মেঘ এলো কোথা থেকে? ক্লাউড কম্পিউটিং এর ক্ষেত্রে ক্রেতারা সাধারণতঃ ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্লাউড সার্ভিস প্রোভাইডারের ক্লাউডের সাথে যুক্ত হন। নেটওয়ার্ক ডায়াগ্রাম আঁকার সময়ে ক্রেতা ও সার্ভারের মাঝের ইন্টারনেটের অংশটিকে অনেক আগে থেকেই মেঘের ছবি দিয়ে বোঝানো হতো। সেই থেকেই ক্লাউড কম্পিউটিং কথাটি এসেছে।
আমরা ইতিমধ্যেই অনেক ক্লাউড প্রযুক্তি ব্যবহার করছি যেমন ইউ সি ব্রাউজারে ,গুগল ড্রাইভে, ড্রপবক্সে আরো অনেক কিছুতে।
এত সুবিধা থাকা সত্বেও ক্লাউডে কিছু অসুবিধা আছে...
আপনার তথ্য যদি ক্লাউডে রাখেন, তাহলে সেই তথ্যের গোপনীয়তা ভঙ্গের সম্ভাবনা থাকে।
তথ্য পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা।
তথ্যের নিরাপত্তার অভাব।
তথ্য ফাঁস হবার সম্ভাবনা।
নোটঃ আপনার একান্ত ব্যক্তিগত ছবি ভিডিও গুগুল ড্রাইভে আপলোড করবেন না( অনেক এন্ড্রয়েড ইউজার এটা করে থাকে)। পাসওয়ার্ড নোট করে ড্রাইভে রাখবেন না।
শিক্ষামূলক পোষ্ট ভাগকরে নিন ,সকলের সাথে। সঙ্গে থাকুন আমাদের পেজের।
আপনার জন্য প্রশ্ন - আপনি কি জানেন  এই মুহুর্তে আপনার এন্ড্রয়েড ফোনের ব্যাটারির টেম্পারেচার কত? জানা থাকলে কমেন্টে লিখুন, আর জানা না থাকলে এই কোড টা টাইপ করুন  *#*#4636#*#*

Tuesday, 2 February 2016

আপনি কি জানেন ,আপনার অজান্তেই আপনার গতিবিধির উপর কেউ নজরদারি করছে কি না? জেনে নিন কি রহস্য আছে এই "RFID" ট্যগ ভিভাইসের পিছনে।


আপনি শপিং মলে গেছেন নিশ্চই ,সে ঘুরতেই যান (আমার মতো) বা সত্যিকারের কিছু কিনতেই যান, একটা জিনিস নিশ্চই দেখেছেন এক একটা প্রোডাক্টের সাথে কতরকম কার্ড লাগানো থাকে। বা আপনি যে ব্রান্ডেড শার্ট টা কিনলেন তার সাথে কতগুলো লেবেল লাগানো থাকে?
এগুলো কী সত্যই শুধু লেবেল না গোপনে আরো অন্য কোনো কাজ করে চলে।
সত্যকথা হল এর মধ্যে অনেকগুলিই শুধু মাত্র লেবেল না, এটা ন্যানো ইলেক্ট্রনিক্স এর এক অনবদ্য আবিষ্কার "RFID" ডিভাইস।
পুরো নাম Radio-frequency identification (RFID)
এর মধ্যে জমা থাকে এমন সব তথ্য যা দিয়ে এটাকে একটা RFID ডিটেক্টর শনাক্ত করতে পারে এর পরিচয়। আর এই কাজ টা করা হয় রেডিও তরঙ্গের সাহায্যে।
কোনো প্রোডাক্ট কে আইডেন্টিফাই করার জন্য যে ফ্রিকুরেন্সী ব্যবহার করা হয় তা ১২০ থেকে ১৫০ কিলো হার্তজ সীমার ভিতর।
এই মাইক্রোচিপ টি কাগজের থেকেও পাতলা হতে পারে,ফলে এটা সহজেই যে কোনো পোষাকের লেবেলের ভিতর ঢুকিয়ে দেওয়া যায় এবং দিনের পর দিন সচল থাকে ব্যবহারকারীর অজান্তেই।
এতে কোনো ব্যাটারি লাগে না,ডিটেক্টর ডিভাইস থেকেই কোনো তার ছাড়াই ইলেক্ট্রোম্যাগ্নেটিক রেজোনেন্সের সাহায্যে এটা পাওয়ার সংগ্রহ করে কাজ করে।

এবার বলি পোষ্টের প্রথমে কেন আপনার গতিবিধির উপর নজর রাখার আশঙ্কা করেছিলাম।
মনে করুন আপনি একটা ব্রান্ডেড শার্ট কিনেছেন যেটাতে এইরকম একটা চিপ লাগানো আছে,যেটা আপনি জানেনই না। এয়ারপোর্ট,শপিংমল, বড় অফিস এইরকম অনেক যায়গাতেই ঢুকতে হলে আপনাকে স্ক্যান করা হয়, কখোনো গেটেই অটোমেটিক স্ক্যানার লোকানো থাকে বা গার্ড নিজেই স্ক্যান করে। ( এইবারের বই মেলায় আমার ব্যাগ এবং আমাকে তিন বার স্ক্যান করেছিল)
এই স্ক্যানার গুলি কিন্তু ওই আর এফ আই ডি চিপের ইনফর্মেশন গুলো পড়ে নিতে পারে। এখন ইন্টারনেট আর ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস মিলিয়ে এক নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাব হয়েছে ,এর পোশাকি নাম " ইন্টারনেট অফ থিংস"।এর মাধ্যমে প্রতিটি ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ইন্টারনেট এর সাথে কানেক্টেড থাকে।এভাবে যদি এই স্ক্যানার গুলিও একে অন্যের সাথে কানেক্টেড থাকে তা হলে বুঝতেই পারছেন আপনি কথা থেকে কোথায় যাচ্ছেন ট্র্যাক করা এমন কিছু কঠিন কাজ না।
তবে চিন্তাই কোনো কারন নেই,কারন ইন্ডিয়া তে সচরাচর এমন টা হয় না।আর আপনি যদি সেই রকম কেউকেটা না হন তা হলে তো কথাই নেই।
আরো লেখার ইচ্ছে ছিল সময়ের অভাবে আর সম্ভব হল না।